সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেড় কোটি টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ
সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির পৃথক ও আকস্মিক অভিযানে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি এবং জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় চা পাতা, জিরা, চিনি, গবাদিপশু, বিড়ি, কম্বল, ওষুধ এবং মদসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী এই অভিযানে জব্দ করা হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির সদস্যরা সীমান্তবর্তী সোনালীচেলা, বাংলাবাজার, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, কালাসাদেক ও পান্থুমাই বিওপি এলাকায় এই বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, চিনি, কম্বল, ওষুধ, মদ, পাতার বিড়ি, গরু এবং বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা চা পাতা আটক করা হয়। বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ব্যাটালিয়নের উদ্ধারকৃত সামগ্রীর আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা।
একই সময়ে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির জোয়ানরা কানাইঘাট উপজেলার সিংগারখাল এলাকায় ভোররাতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ১২০ কেজি ভারতীয় চা পাতা এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি বাংলাদেশি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয় যার আনুমানিক মূল্য ১৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এছাড়া এই ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ সুরাইঘাট, উত্তরকুল ও জৈন্তাপুর বিওপির জওয়ানরা পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২টি ভারতীয় মহিষ, ৪১ হাজার পিস পাতার বিড়ি, একটি অটোরিকশা এবং একটি গরু আটক করতে সক্ষম হন যার বাজার মূল্য ১৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। দুই ব্যাটালিয়নের এই সমন্বিত অভিযানে সর্বমোট উদ্ধারকৃত চোরাচালানি পণ্যের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকারও বেশি।
সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান যে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সব ধরনের চোরাচালান এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে উদ্ধারকৃত সমস্ত মালামাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এমন কঠোর ও জনকল্যাণমুখী অভিযান আগামী দিনগুলোতেও একইভাবে চলমান থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।