ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় জৈন্তাপুরে কৃষি প্রযুক্তি মেলা এর উদ্বোধন
সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে দেশের কৃষিখাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষে এক বর্ণাঢ্য কৃষি প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভয়াবহ বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট বা ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় এই যুগোপযোগী মেলার আয়োজন করা হয়। রোববার (৭ জুন) দুপুর বারোটায় উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে এই ব্যতিক্রমী মেলাটির আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুনন্দা রায়।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার এবং পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসাইন।
জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাফিজ, ৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার রাজিব চক্রবর্তী, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অলিউর রহমান এবং সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ও উপস্থিত বিশেষ অতিথিবৃন্দ মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং আধুনিক যুগের উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতিসহ কৃষকদের কল্যাণে প্রদর্শিত নানামুখী ডিজিটাল কৃষি প্রযুক্তির খোঁজখবর নেন।
কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই মেলায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম খান এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুনাংশ দাশ, ভানু চন্দ্র নাথ, সমর মোহন ধর, নোমান আহমদ, কামরুন নাহার, সোহেব আহমদ, মোহাম্মদ জাবেল খলিল চৌধুরী, সানজিদা ইসরাত, সাহাব উদ্দিন, দেলোয়ার হোসাইন, মোর্শেদা আক্তার, মোহাম্মদ সালেহ আহমদ, তামান্না আক্তার ও মামুনুর রশিদসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক উৎসুক কৃষক। উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তারা বলেন যে বর্তমান সময়ে কৃষির আধুনিকায়ন এবং পরিবেশের প্রতিকূলতা জয় করতে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের কোনো বিকল্প নেই। এই ধরনের উদ্ভাবনী মেলা প্রান্তিক অঞ্চলের সাধারণ কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। মূলত মাটির সোঁদা গন্ধ আর আধুনিক বিজ্ঞানের এই অপূর্ব সমন্বয় কেবল ফসলের উৎপাদনই বাড়াবে না বরং তা আমাদের কঠোর পরিশ্রমী কৃষকদের মুখে এক চিলতে সোনালী হাসি ফুটিয়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা রাখবে যা আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।