লাইলাতুল কদরের মহিমা ও ইবাদতের সঠিক পন্থা
ইসলামী বিশ্বাস ও দর্শনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং বরকতময় একটি অধ্যায় হলো লাইলাতুল কদর। পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাতে মহিমান্বিত এই রজনীর আগমন ঘটে যা মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। ফারসি ভাষায় শবে কদর হিসেবে পরিচিত এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মাগফিরাতে পরিপূর্ণ থাকে। মূলত এই রজনীতেই মানবতার মুক্তির সনদ পবিত্র কোরআন লোহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং মহান আল্লাহ এই রাতেই মানবজাতির পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করেন।
শবে কদরের ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম বা রাকাআত সংখ্যা নেই বরং এটি সম্পূর্ণভাবে নফল ইবাদতের একটি বিশেষ সুযোগ। একজন মুমিন মুসলমান দুই রাকাআত করে নফল নামাজ যতটা গভীর মনোযোগ ও একাগ্রতার সাথে সম্ভব আদায় করতে পারেন। প্রচলিত ধারণায় কোনো বিশেষ সুরা পড়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে কিরাত পাঠ ও লম্বা সেজদা করা ইবাদতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। নামাজের পাশাপাশি এই মহিমান্বিত রাতে বেশি বেশি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা এবং জিকির ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে নিজের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রত্যেক বিশ্বাসী হৃদয়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মর্যাদাপূর্ণ রাতে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার জন্য উম্মতদের উৎসাহিত করেছেন। মহান আল্লাহর গুণগান গেয়ে এই দোয়ায় প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল হিসেবে আমাদের সকল অপরাধ মার্জনা করেন। রমজানের এই পবিত্র সময়গুলোতে দুনিয়াবি সকল ব্যস্ততা ভুলে স্রষ্টার সান্নিধ্যে নিজেকে বিলীন করে দেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এই লগ্নে প্রতিটি মানুষের উচিত হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া এবং আর্তমানবতার কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করা।
জীবনের দীর্ঘ পথ চলায় আমরা যখন ভুলের চোরাবালিতে দিশেহারা হয়ে পড়ি তখন এই পবিত্র রজনী আমাদের সামনে আলোকবর্তিকা হয়ে হাজির হয়। এটি কেবল একটি রাত নয় বরং পাপাচারের অন্ধকার থেকে নিষ্কলুষ আলোর পথে ফেরার এক সুবর্ণ সুযোগ। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি হৃদয়ে আল্লাহর ভয় ও সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হবে এবং আত্মিক প্রশান্তির মাধ্যমে সমাজ থেকে দূর হবে সকল অন্যায় ও অবিচার। অন্ধকারের বিষণ্ণতা মুছে গিয়ে রহমতের নূরে আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার হারানো নৈতিকতা ও অনাবিল শান্তি। সাহসের সাথে কুপ্রবৃত্তিকে জয় করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এক চিরস্থায়ী মুক্তির পথে।